গর্ভাবস্থায় ওভারিয়ান সিস্ট

গর্ভাবস্থায় ওভারিয়ান সিস্ট :
গর্ভাবস্থায় ডিম্বাশয়ের সিস্ট হলে সাধারণত চিন্তার কোন ও কারণ থাকে না । বেশিরভাগ ডিম্বাশয়ের সিস্টই ক্ষতিকারক , ব্যথাহীন , এবং নিজে থেকেই চলে যায় । ডিম্বাশয়ের সিস্ট সাধারণত কোনও লক্ষণ দেখা দেয় না , যদিও সিস্ট ফেটে গেলে তা বেদনাদায়ক হতে পারে এবং যদি কোন ও সিস্ট ডিম্বাশয়কে মোচড় দেয় তাহলে তখনি আপনার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে । যদিও এটি সাধারণত প্রয়োজন হয় না , ডাক্তাররা গর্ভাবস্হায় নিরাপদে ডিম্বাশয়ের সিস্ট অপসারণ করতে পারেন ।

* ডিম্বাশয়ের সিস্ট আসলে কি ?
ডিম্বাশয়ের ভেতরে বা তার উপর তরল বা টিস্যু ভর্তি থলিকে ডিম্বাশয়ের সিস্ট বলে ।
ডিম্বাশয়ের সিস্ট সাধারণত ব্যাথাহীন থাকে এবং নিজে থেকেই চলে যায় । এগুলির আকার আধা ইঞ্চি থেকে চার ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে এবং সাধারণত মেনোপজের সময় বা পরে এগুলি দেখা যায় । বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭% মহিলার জীবনের কোন না কোন ও সময়ে ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকে ।

* ডিম্বাশয়ের সিস্ট বিভিন্ন ধরনের হয় –

. টেরাটোমা সিস্ট ( যাকে ডার্ময়েড সিস্ট ও বলা হয় ) । বিভিন্ন শারীরিক টিস্যু ধারন করে , যেমন ত্বক এবং চুলের টিস্যু । টেরাটোমা সিস্ট জন্ম থেকেই শরীরে থাকতে পারে এবং তারপর একজন মহিলার সন্তান ধারণের সময়কালে বৃদ্ধি পেতে পারে । এটি বিরল তবে এগুলি ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে ।

. একজন মহিলার এন্ডোমেট্রিওসিস হলে এন্ডোমেট্রিওমাস তৈরি হতে পারে ( এমন একটি অবস্থা যেখানে সাধারণত জরায়ুকে আবদ্ধ করে এমন টিস্যু জরায়ুর বাইরে , প্রায়শই ডিম্বাশয়ের উপরে বৃদ্ধি পায় ) । এগুলিকে চকোলেট সিস্ট ও বলা হয় এবং রক্তে ভরা থাকে ।
যখন ডিম্বাশয় অনেক ছোট সিস্ট তৈরি করে , তখন তাকে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম ( PCOS )বলা হয় । PCOS প্রজনন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং পরবর্তী জীবনে ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে ।‌

. ফাংশনাল সিস্ট : এই সিস্ট হলো সবচেয়ে খারাপ ধরনের সিস্ট , এগুলি ডিম্বস্ফোটনের সাথে জড়িত এগুলি ক্যান্সার সৃষ্টি করে না , ফাংশনাল সিস্টের মধ্যে রয়েছে ফলিকুলার সিস্ট এবং কার্পাস লুটিয়াম সিস্ট । ফলিকুলার সিস্ট তখন তৈরি হয় যখন ডিম্বানু ধারণকারী ফলিকল ডিম্বস্ফোটনের সময় ডিম্বানুটি খুলে না ফেলে এবং ছেড়ে না দেয় বরং এটি ধরে রাখে । যার ফলে একটি সিস্ট তৈরি হয় । কার্পাস লুটিয়াম সিস্ট ডিম্বস্ফোটনের পরে তৈরি হয় । সাধারণত ফলিকল থেকে একটি ডিম্বাণু বের হওয়ার পরে ফলিকল সঙ্কুচিত হয় । যদি ফলিকলটি সঙ্কুচিত না হয় বরং এতে তরল জমা হয় , তবে এটি একটি কার্পাস লুটিয়াম সিস্ট তৈরি করে ।

. সিস্টাডেনোমা সিস্টগুলি ডিম্বাশয়ের বাইরের পৃষ্ঠে বৃদ্ধি পায় এবং ( ক্যান্সার বিহীন ) এগুলি বেশ বড়ো এবং শক্ত হতে পারে ।

* ওভারিয়ান সিস্টের এ ঝুঁকির কারণগুলি হল :
একজন মহিলার ডিম্বাশয়ের সিস্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে যদি :
১ – এন্ডোমেট্রিওসিস : এটি এমন একটি চিকিৎসা অবস্হা যেখানে টিস্যু আপনার ডিম্বাশয়ের সাথে সংযুক্ত হয়ে সিস্টে পরিনত হয় ।
২ – হরমোন জনিত সমস্যা : এগুলি ডিম্বস্ফোটন ঘটায় এমন উর্বরতা ওষুধ গ্ৰহনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে ।
৩ – গুরুতর পেলভিক সংক্রমন : যখন সংক্রমন ডিম্বাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন সিস্ট হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে ।
৪ – গর্ভাবস্হা : গর্ভাবস্হার প্রথম তিন মাসে সিস্ট হওয়া খুবই সাধারণ । যদি এর পরেও সিস্ট স্থায়ী হয় , তাহলে তাদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন ।
৫ – পূর্ববর্তী ডিম্বাশয়ের সিস্ট : যদি আপনার ডিম্বাশয়ের সিস্টের ইতিহাস থাকে , তাহলে আপনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি । যখন
উপস্থিত সিস্টগুলি সিস্টাডেনোমাস বা ডার্ময়েড সিস্ট হয় , তখন তাদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রয়োজন হয় । সিস্টগুলি অত্যন্ত বড়ো , জটিল বা ক্যান্সার যুক্ত হলে ডিম্বাশয়ের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রয়োজন হয়।

* ডিম্বাশয়ের সিস্টের লক্ষনগুলি হলো :
ডিম্বাশয়ের সিস্ট খুব কমই কোনো ও লক্ষণ দেখা যায় । আপনার ডাক্তার বা নার্স নিয়মিত পেলভিক পরীক্ষা বা আল্ট্রাসাউন্ডের সময় এটি আবিষ্কার করতে পারেন । যদি ডিম্বাশয়ের সিস্ট বড়ো হয় , রক্তপাত হয় । ফেটে যায় , মোচড় দেয় , তবে এটি বেদনাদায়ক হতে পারে ।
ডিম্বাশয়ের সিস্টের অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে – ফুলে যাওয়া ,
পেটে চাপ ,
মলত্যাগের সাথে যুক্ত ব্যথা ।

* গর্ভাবস্থায় ওভারিয়ান সিস্টের প্রভাব :
ডিম্বাশয়ের সিস্টগুলি সাধারণ , এবং বেশিরভাগই
গর্ভাবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি করে না , কার্যকারি সিস্ট যা প্রায়শই একজন মহিলার মাসিক চক্রের সময় তৈরি হয় । সাধারণত কোন ক্ষতি না করেই অদৃশ্য হয়ে যায় । এই ধরনের সিস্টগুলি সাধারণত উর্বরতা বা গর্ভাবস্হায় হস্তক্ষেপ করে না , তাই বেশিরভাগ মহিলা এই সিস্ট সম্পর্কিত সমস্যা ছাড়াই গর্ভধারণ করতে এবং সন্তান ধারণ করতে পারেন ।
. এন্ডোমায়োসিস এবং উর্বরতা : তবে কিছু ডিম্বাশয়ের সিস্ট গর্ভাবস্থার উপর আরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে । উদাহরণ স্বরূপ
এন্ডোমেট্রিওমাস যা এন্ডোমেট্রিওসিসের সাথে সম্পর্কিত সিস্ট , মহিলাদের গর্ভধারণকে কঠিন করে তুলতে পারে । এন্ডোমেট্রিওসিস ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে , যার ফলে প্রজনন সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

error: Content is protected !!
Don`t copy text!